টয়োটা আই-রিয়েল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

আই-রিয়েল হচ্ছে একটি 'ব্যক্তিগত চলাচলের নমুনা' (যন্ত্র) যা তৈরি করেছে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরির বিরাট প্রতিষ্ঠান টয়োটা ২০১০ সালের যেকোনো সময়ে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়। এটি টয়োটার আগেরকার ব্যক্তিগত চলাচলের বাহন যেমন টয়োটা আই-ইউনিট এবং টয়োটা আই-সুইং এর উন্নত রূপ। ঐ বাহনগুলোর মত আই-রিয়েল বৈদ্যুতিক শক্তিতে পরিচালিত একটি ৩ চাকার এক আসনের বাহন যা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সাহায্যে কাজ করে। এর মূল্য আনুমানিক ৩০০০ - ৫০০০ মার্কিন ডলার। বাহনটির নকশা তৈরি করেছিলেন জনাব মোরিতা যিনি বাহনটি বাজারে আসার পূর্বে মন্তব্য করেছিলেন যে বাহনটির দাম "মোটর বাইক থেকে বেশি কিন্তু গাড়ি থেকে কম" হবে।[১][২]

তৈরির উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

মানুষের চলাফেরাকে ভবিষ্যতে আরও ব্যক্তিগত রূপ দিতে টয়োটা ব্যক্তিগত চলাফেরা (পার্সোনাল মোবিলিটি) সিরিজে বেশ কয়েকটি গাড়ি বের করে। এর ধারাবাহিকতায় টয়োটা ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বেইজিং মোটর প্রদর্শনীতে টয়োটা আই-রিয়েল প্রদর্শন করে।[৩] ব্যক্তিগত চলাচলের ধারণাকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে একধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে টয়োটা এটি তৈরি করেছে।[২] টয়োটা এইধরনের বাহনকে জনবহুল শহরের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছে।[৪]

প্রজুক্তিগত দিক[সম্পাদনা]

শক্তি[সম্পাদনা]

আই-রিয়েল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি থেকে প্রাপ্ত বৈদ্যুতিক শক্তির সাহায্যে চলে। এই ব্যাটারি চার্জ হতে ২ ঘণ্টা সময় নেয় এবং এর এক ঘণ্টা পর ৮০ শতাংশ চার্জ অবশিষ্ট থাকে যা দিয়ে খুব সহজে ২৪ কিলোমিটার যাওয়া যায়।[১] এটি প্রচলিত যেকোনো প্রযুক্তির তুলনায় অধিক শক্তি সাশ্রয়ী।[৫]

গতি[সম্পাদনা]

স্বল্প-গতিতে চললে বাহনটি উঁচু হয়ে থাকে এবং সাধারণ হাঁটার গতিতে চলতে থাকে এবং ব্যক্তির চোখের উচ্চতা সাধারণ পথচারীদের চোখের উচ্চতার সমান হয়, এসময় যন্ত্রটি জায়গা ও কম নেয়।[৬] উচ্চ-গতিতে বাহনটি কাঁত হয়ে এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে এবং একক চাকা এগিয়ে দিয়ে এর অ্যারোডায়নামিক্স (বাতাসের বাঁধাজনিত আচরণ) ও দৃঢ়তার উন্নতি করে যাতে তা ১৮.৬ মাইল/ঘণ্টা অথবা ৩০ কিলোমিটার/ঘণ্টা পর্যন্ত গতিবেগ উঠাতে পারে। এটি অন্যান্য এক-ব্যক্তি বাহন যেমন সেগওয়ের মত কোণাকোণি ভাবে কাঁত হয় যাতে এটি ঢালু হয়ে গড়াগড়ি না খায়।

নিয়ন্ত্রণ[সম্পাদনা]

বাহনটিতে প্রতি হাতের জন্য একটি করে দুইটি জয়স্টিক (বাহন নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র) থাকে।[৩] যেকোনো একটি দ্বারাই আই-রিয়েল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে ডান-হাতি এবং বাম-হাতি উভয় ব্যাক্তিই সমান দক্ষতার সাথে এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এগুলো সামনের দিকে চাপালে বাহনটি সামনের দিকে, বামে চাপালে বামে, ডানে চাপালে ডানে এবং পেছনে চাপালে থেমে যায়। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ৬টি মোটর রয়েছে।

নিরাপত্তা[সম্পাদনা]

পেরিমিটার-মনিটরিং সেন্সর কোন ব্যক্তি বা বস্তুর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ বুঝতে পেরে শব্দ ও কম্পনের মাধ্যমে চালককে সাহায্য করে। একই সময় এটি আলো ও শব্দের মাধ্যমে নিকটস্থ লোকদের এর উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করে। বাঁক নেয়ার সময় নির্দেশক বাতি আলো ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশকে সতর্ক করে। প্রয়োজনে সিটবেল্টের ব্যবস্থাও আছে।[১] [২]

পরিবেশগত দিক[সম্পাদনা]

পরিবেশগত দিক মাথায় রেখে এই বাহনের বিভিন্ন অংশে প্রথাগত অ্ক্রাযাইলিক রেজিন প্যানেলের পাশাপাশি কেনাফ পাটের বায়োপ্লাস্টিক প্যানেল ব্যবহার হয়েছে। শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার হওয়া লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি শক্তি সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকটাই পরিবেশ বান্ধব।[১][৫]

সামাজিক প্রভাব[সম্পাদনা]

২০০৮ সালে বিবিসির মোটরিং প্রোগ্রাম টপ গিয়ারে (সিরিজ ১২) রিচার্ড হ্যাম্মন্ড আই রিয়েল চালিয়েছিলেন।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

উৎস[সম্পাদনা]