ভাদুঘর শাহী মসজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

ভাদুঘর শাহী মসজিদ প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অন্তর্গত ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত। এই মসজিদ সম্মুখস্থ বিশাল ঈদগাহ ময়দানে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নির্মাণের ইতিহাস[সম্পাদনা]

পাক-ভারত উপমহাদেশে প্রায় ৭০০ বছর মুসলিম শাসন বিদ্যমান ছিল। যার মধ্যে মুঘল শাসকগণ অন্যতম। এই মুঘল শাসকগণের মধ্যে জিন্দাপীর বলে খ্যত মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগীর (১৬৫৮-১৭০৭) অত্যন্ত খোদাভীরু শাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই মহান বাদশাহ মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগীর এর রাজত্বকালে ১০৮৪ হিজরি আনুমানিক ১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দে সে সময়কার সরাইল পরগণার জমিদার নুর এলাহী ইবনে মজলিশ শাহবাজের তত্ত্বাবধানে ঐতিহাসিক ভাদুঘর শাহী মসজিদ নির্মিত হয়।

নির্মাণশৈলী[সম্পাদনা]

এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির আয়তন ৪৪ ফুট বাই ২৪ ফুট। দেয়ালের পুরুত্ব ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। ১২ ফুট বাই ৯ ফুট পরিমিত ভিতে স্থাপিত মিনারটির উচ্চতা ৭৫ ফুট। মসজিদের অভ্যন্তরীণ কারুকার্যের মথধ্য কলসের মধ্য হতে বের হয়ে আসা একটি করে হাত প্রসারিত অবস্থায় ছিল। যা অন্য কোন মসজিদে দেখা যায়নি। মসজিদে কালো পাথরে ফারসি ভাষায় লিপি রয়েছে। যা থেকে এর ইতিহাস জানা যায়।[১]

ইমামতি[সম্পাদনা]

ভাদুঘর শাহী মসজিদের প্রথম ইমাম হিসেবে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হন বাদশাহ আলমগীরের শিক্ষক, তাফসীরাতে আহমদিয়া এবং নুরুল আনোয়ার এর মত বিখ্যাত গ্রন্থসমুহের লেখক শায়খ আহমদ ইবনে আবু সাঈদ ইবনে ওবায়দুল্লাহ আল হানাফী আস সিদ্দিকী [শায়খ মোল্লাজিউন (রহ)] এর যোগ্য উত্তরসূরি মাওলানা মোল্লা নাসিরউদ্দিন (রহ)। তিনি এই মসজিদের ইমাম এবং খতিবের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আসার পর আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত এর অনুসারীদের নিয়ে এ এলাকায় সুন্নীয়তের এক শান্তিপুর্ণ আবহ তৈরী করেন। তার যোগ্য উত্তরসূরি সুন্নী আলেমগণ বংশ পরম্পরায় অদ্যবধি ভাদুঘর শাহী মসজিদের ইমাম ও খতিবের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. কালোত্তর ব্রাক্ষণবাড়িয়া, ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রেসক্লাব প্রকাশিত